শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির
রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে রাজাপাক্সা পরিবার। গোটাবায়া রাজাপাক্সা বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন । তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে শ্রীলঙ্কা ছেড়ে পালিয়ে যায় মালদ্বীপে সেখান থেকে সিঙ্গাপুর । প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে ভারপ্রাপ্ত
প্রেসিডেন্টের নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন দায়িত্ব
পাওয়ার পরই তিনি দেশে জরুরি
অবস্থা ঘোষণা করে রাজধানী কলম্বো
ও আশেপাশের এলাকায়
কারফিউ জারি করা হয়েছে।এমন
পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় সমস্যা বা সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, সেটাই এখন দেখার । শ্রীলঙ্কার কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের
সময় চীনের নীরব থাকা নিয়েও
নানা সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের অব্যাহত
ঋণের কারণে শ্রীলঙ্কা ঋণের মরণ ফাঁদে আটকে
পড়েছে। তাই মুখে কুলুপ এঁটে থাকা চীনকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সময় শ্রীলঙ্কাকে আর্থিক
সহায়তার কথা বিবেচনা করছে কি না,
সে বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার
মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে চীন।এশিয়া ও
আফ্রিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশের সাম্প্রতিক ঋণ সমস্যার জন্য তাঁদেরই দায়ী করছে চীন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারত ও চীনের
সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বিনিথা রেভি। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার বর্তমান অবস্থায় চীন নিরব থাকতে ইচ্ছুক এবং অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখে
মন্তব্য করতে চায়।শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় রনিল
বিক্রমাসিংহেকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।কয়েক মাস
আগে শ্রীলঙ্কা যখন চরম আর্থিক সংকটে পড়ে
তখনই হঠাৎ শ্রীলঙ্কা সরকার পরিস্থিতি
থেকে উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ভারত সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করে। ঠিক তখনই ভারত সরকার
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় । এই বিশাল পরিমাণ ঋনের ঘটনাকে ভারতের কূটনৈতিক জয় হিসাবে মনে করেন রাজনৈতিক
মহল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে শ্রীলঙ্কা আর্থিক সাহায্যের জন্য মুখিয়ে ছিল, অপর দিকে ভারত শ্রীলঙ্কায় তার প্রভাব পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছে।গত দেড় দশকে পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সাহায্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় প্রভাব বিস্তারে ভারতকে টেক্কা দিচ্ছিল চীন। শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা বিবিসিকে বলেন ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করছে বিশেষ করে আমরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত এগিয়ে এসেছে এবং আমাদের সাহায্য করেছে। রাজাপাক্সা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৫ সাল থেকে ভারতের প্রভাব থেকে বের হতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা।রাজা্পাক্সা দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা আরও বেশি দূরে সরে যায় ভারতের কাছ থেকে। এই সময়ে শ্রীলঙ্কা দক্ষিণাঞ্চলীয় হামবানটোটা বন্দরসহ চীনের সঙ্গে একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে চুক্তি করে । শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত চীনের কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ নিয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে ঋণের জন্য চীনের কাছে হাত পাতলেও এখন পর্যন্ত চীনের কাছ থেকে নতুন কোন ঋণের প্রতিশ্রুতি পায়নি ।
পাকিস্থানে চীনের বিনিয়োগ ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার , বাংলাদেশে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার , নেপালে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । সারা বিশ্বের প্রায় ৭০ টি দেশ চীনের কাছ থেকে এ রকম সাহায্য নিয়েছে । যারা চীনের কথায় উঠে বসে ।শুধু শ্রীলঙ্কাই নয় পাকিস্থান,নেপাল ও বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ঋন নিয়ে চীনের এই এলাকার আধিপত্য বিলীন করে দিয়েছে ।
অপর দিকে ভারত ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কাকে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তার মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও আছে । ভারত বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার শ্রীলঙ্কায় পেট্রল, ডিজেল, ঔষধ , খাদ্য, সারসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ ও পাঠিয়েছে, শ্রীলঙ্কার জন্য এখন সবচেয়ে প্রয়োজন বেশি ।
দিল্লির ঋণ ছাড়া তামিলনাডু রাজ্য সরকার শ্রীলঙ্কায় খাদ্য ও ওষুধ পাঠিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, শ্রীলঙ্কায় ভারতবিরোধী মনোভাব থাকলেও এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দিল্লির সাহায্য পেয়ে দেশটির জনমত সম্পূর্ন বদলে গেছে ।
শ্রীলঙ্কার এক বেসরকারি
কর্মী বলেন, ভারত সময়মতো খাদ্য ও পেট্রল দিয়ে সাহায্য না
করলে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেত।
অন্য দিকে বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, শ্রীলঙ্কাকে
ভারতের সাহায্য কূটনৈতিক দিক থেকে
উল্লেখযোগ্য। কারণ, এর মাধ্যমে
শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিন এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে ভারত। যা চীনকে সহজেই
টেক্কা দিতে পারবে।
0 মন্তব্যসমূহ
Do not share any Link